Design a site like this with WordPress.com
Get started

পত্র গল্প

একটি পত্র

গল্প
———ইয়াছিন——-
মাধবী লতা,

দীর্ঘ দিন মানষিক রোগ যন্ত্রনার মধ্য দিয়ে আজ তোমায় সর্বশেষ লিখে রেখে যাচ্ছি,, যদি কখনো ফেইস বুকের সাহিত্যের পাতা খুলে দেখতে পাও আমার এ লিখা একটু কষ্ট করে হলেও পড়ে নিও শেষ মিনতি আমার,, যখন হয়তো আমার এ লিখা পড়বে তখন হয়তো আমি সুদূর নীল আকাশের পথে পাড়ি জমাবো, এ ভূবনের মাঝে কেউ আর খুঁজে পাবেনা, শত চেষ্টা করিলেও আর কেহই ফিরিয়ে আনিতে পারিবেনা এ আমার অক্ষমতা মাধবী লতা, তোমায় গভীর থেকে গভীরে ভালবেসেছিলাম, বলিতে পারিনি কোনদিন এটাই ছিল আমার অক্ষমতা, তুমিও বার বার আমার দিকে ফিরে ফিরে তাকিয়ে দেখেছ, কোনদিন কিছু বল নাই.. মনে পড়ে সেদিনের কথা একটি অনুষ্ঠানে যখন আমি আমার স্বরচিত কবিতা ভালবাসা আবৃতি করছিলাম, অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলে আমার দিকে, আনন্দের বন্যার বান বয়ে যাচ্ছিল তোমার হৃদয় মাঝে,, প্রথম পুরুস্কার নিয়ে আমি যখন পথ দিয়ে ফিরিতেছিলাম. পথের মাঝে দাঁড়ায়ে বলেছিলে মাধব এ পুরুস্কার তোমার না,, এ পুরুস্কার মাধবী লতার, আমি হাসতে হাসতে হাসতে তুলে দিয়েছিলাম তোমার হাতে, তুমিও হাসতে হাসতে বরন করে নিলে আর হাতে আলতেো করে চিমটি দিয়ে বললে মনে থাকবে,,অনেকদিন দেখা হয়েছে তোমার আমার সাথে, আড় চোখে তাকিয়ে দেখেছি আমি , তুমিও দেখেছ গভীর দৃষ্টি দিয়ে ,, প্রকাশ করা হয়নি ভালবাসার কথা তোমার কাছে, সুদূর প্রবাসের প্রবাসী এখন আমি, কাল ব্যধিতে আমায় কুরে কুরে খাচ্ছে, তোমার সনে এ জনমে আমার আর দেখা হবেনা. আমার অক্ষমতা আজ প্রকাশ করে গেলাম মাধবী লতা, মনের গভীরের স্বর্গীয় ভালবাসার মূল্য দিয়ে গেলাম.. তবুও শেষের বেলায় মিনতি করি,, বিধাতার গড়া মসজিদে, দেবতার পবিত্র মন্দিরে, খ্রীষ্টের গীর্যায়, বৌদ্ধের প্যাগাডোয় পুষ্পাঞ্জলী দিয়ে আর্শীবাদ করি চির সুখে সুখী হও |
(বন্ধুগন যদি কখনো মাধবী লতার সন্ধান পান আমার প্রানের আকুতির বারতার কথা বলিবেন এটাই আমার শেষ অনুরোধ, আর কোনদিনই অনুরোধ করিবনা আপনাদের কাছে)
——————ইতি———————
ভাগ্যের ক্রীড়নক

ঃঃঃ মাধবী লতার দিঠি ঃঃঃ
————–ইয়াছিন————-
ঘৃনিত মাধব,
ফেইস বুক সাহিত্যে তোমার পত্র পাঠান্তে সব কিছুই জানিতে পারিয়াছি, প্রথমেই বলিয়া রাখি তোমাকে আমি চরম ঘৃনা করি, কারন তোমার সম্বন্ধে আমি ভালই করেই জানি, তুমি হয়তো ভাবছ দেবদাসের পার্বতি আমি তাইনা, আরো ভাবছ হয়তো আমি চন্দ্রমুখী, আরো ভাবতে পার শ্রীকান্তের রাজলক্ষী তাইনা, পার্বতি, চন্দ্রমুখী,রাজলক্ষী এরা ভুল করেছিল, আমার মত মাধবী লতা যদি হত ঘৃনায় মুখ ফিরিয়ে নিত, যার ভালবাসার জন্য আমি পাগলিনি ছিলাম, তুমি ভালবাসার মূল্য দাও নাই, তোমার কন্ঠ ছিল ভাল, সুন্দর কবিতা রচনা করতে পারতে, এজন্য আমি পাগলিনী ছিলামনা, তোমার বাবা আর আমার বাবা দহলিজে বসে যখন গল্প করত আর বলত আমাকে তোমার বাবা পুত্র বধূ হিসাবে আলকিত করবে তোমার কাছে, তোমার বাবার কথার মূল্য দিতে গিয়ে আমার হৃদয়ের গভীর থেকেও বেসি ভালবেসেছিলাম তোমায়, তুমি কখনোই বাড়ী থাকিতেনা, ভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে তবুও মনটা আমার তোমার নিকট পড়ে থাকত, কোনদিন কি প্রশ্ন করেছ আমি কেমন আছি, কোনদিনই প্রশ্ন কর নাই,, কাকিমা বলতেন বিয়ের পরে তুমি ঠিক হয়ে যাবে, আমিও মনে মনে ভাবতাম মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলব, সে সুযোগ তুমি আমায় দাও নাই, আজ কেন আমার কথা তুমি মনে কর, মনে করে কোন লাভ নাই, তোমার মনে পড়ে তোমার অগ্রজের সাথে আম্র কাননে বসে কথা বলছিলে, তোমরা দুই ভাই এক সংগে হাসছিল, আবার এক সংগেই কাঁদছিলে, সে দিন কি কথা হয়েছিল তোমাদের, তুমি কেন তোমার বাবা, মা, আমাকেও বলনি,, সন্ধ্যা লগনে একাকি নিরবে কাহাকেও কিছু না বলিয়া চোরের মত বাহির হইয়া পড়িলে,, কাকিমা তোমাকে অনেক খুঁজিয়াছিল কোথাও পাই নাই, কি অপরাধ করিয়াছিল তোমাকে গর্ভে ধারন করিয়া এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে তুমি, ঠিক তার তিন দিন পরে তোমার অগ্রজ ইহধাম ত্যাগ করিলেন, আর কিছুক্ষনের ভিতর তুমি আসিয়া পড়িলে, বল সেদিন তুমি কোথায় ছিলে, জানি এ প্রশ্নের জবাব তুমি দিবেনা, আসিয়া তুমি অগ্রজের সন্তানদের বুকের মাঝে টানিয়া নিয়া আদর সোহাগে ভরিয়ে দিতে লাগলে, তুমি কি একবারও তাকিয়া দেখিয়াছ তোমার স্নেহময়ী জননীর দিকে , বার বার মুর্ছা যাচ্ছিল, তুমি কেন তোমার জননীর নিকট আসিলেনা, এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে, জানি পারবেনা, সাতদিন পর যখন তুমি বিদায় নিতেছ বাড়ী থেকে তোমার অগ্রজের সন্তানদের তুলে দিলে কাকিমার হাতে, তোমার নামিয় সম্পদ দিয়ে গেলে অগ্রজের সন্তানদের , জানি এখানে তুমি পূন্য করেছ, যখন তোমা র বাবা ইহধামে পাড়ি জমালেন তখন তুমি কোথায় ছিলে, এ প্রশ্নের জবাব দিবে, কেন তোমার বাবার মৃত মুখ দেখিতে আসিলেনা, যে তোমাকে এ পৃথিবীর বুকে নিয়ে আসিল, কাকা বাবু তোমার কাছে কি অপরাধ করিয়াছিলেন বলতে পার, বল আমার ভালবাসা তোমার নিকট কি করে থাকতে পারে,, আমি তোমাকে চরম ঘৃনা করি, তোমার মৃত্যুর সময়ও যেন ঈশ্বর কাহাকেও পাঠায়ে না দেন মুখে এক বিন্দু জল দেবার জন্য |
ঃঃঃঃঃঃমাধবী লতা
ঃঃঃ মাধবের দ্বিতীয় পত্র ঃঃঃ
—————-ইয়াছিন————
মাধবী লতা,
তোমার পত্র পাঠান্তে সব কিছুই অবহিত হইলাম, তুমি আমাকে প্রশ্ন করিয়াছ, তোমার প্রশ্নের জবাব না দিলে একটা দিক শুন্য থেকে যাবে, তাই জবাব দিতেছি, বাবার মৃত্যুর সময় আসিলাম না কেন, তোমার মনে পড়ে মাধবী আমরা দুটি ভাই ছিলাম দ্বিতীয় মায়ের সন্তান, শৈশবেই মাকে হারিয়েছিলাম, তার পর আমাদের দু ভাইয়ের জীবনে নেমে আসিল কাল বৈশাখীর ঝড়, অকথ্য নির্যাতন চলেছে আমাদের উপরে জন্ম দাতা বাবার সামনেই, সেদিনতো বাবা কোন প্রতিবাদ করে নাই, মেজ দিদি প্রতিবাদ করায় অকথ্য নির্যাতনও সহ্য করতে হয়েছে মেজ দিদিকে, আজো আমার চোখের জল ঝরে মেজ দিদির জন্য, যখন আমি জানতে পারলাম, অপরের কাজ করে খেতে হবে, সারারাত ধরে দু ভাই কেঁদেছিলাম, আমি আমার দাদার পা দুটি জড়ায়ে ধরে বলেছিলাম দাদা তোমাকে মানুষ হতে হবে, দাদার চোখের জল আমার মস্তক বহিয়া শরীর ভিজিয়া গিয়াছিল, প্রভাতের ধ্বনি শুনিলাম নিজে বের হয়ে পড়ি অজানা পথে, হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করিয়া দু পক্ষ কাল পরে ফিরিয়া আসি দাদার পড়ার কিছু পয়সা সঙ্গে করিয়া, সে সময় আমার শরীরের অবস্হা কি হইয়াছিল তাহা তুমি দেখ নাই, বাড়ীতে আসার সঙ্গে সঙ্গে বড় মা রশি দিয়া বাঁধিয়া বাবার সামনেই কি রুপ বেদম প্রহার করিয়াছিল, বাবাতো নিরব দর্শকের মত দাঁড়িয়েছিলেন, কিছুই বলেন নাই, মেজ দিদি আর আমার দাদা ছুটিয়া আসিয়া আমাকে জড়ায়ে ধরিলেন তবুও বড় মায়ের প্রহার থামে নাই, যখন শরীরে ঝাল মিটিয়া গেল তখন বাবাকে সঙ্গে করিয়া ঘরের ভিতর প্রবেশ করিল, আর আমার দাদা ও বৈমত্রীয় মেজদিদি ধরিয়া নিয়া ঘরে আসিল,, দিদির চোখের জল অঝর ধারায় ঝরিতেছিল, তুমি স্ব চক্ষে দেখিয়াছিলে, রাতের আঁধারে চুরি করে খানা নিয়ে এসেছিলে আমাদের দু ভাইয়ের জন্য, আমিই নিজে পরিশ্রম করিয়াছি দাদার জন্য তোমার সামনেই, দাদাকে আমি মানুষের মত মানুষ করিয়া গড়িয়া তুলিয়াছি, এটা কি আমার অপরাধ, দাদার সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করিয়া গড়িয়া তুলিয়াছি এটাই কি আমার অপরাধ, আমার জীবনে কি হবে এটা ভাবিয়া দেখি নাই এটাই কি আমার অপরাধ, বাবার মৃত্যুর বারতা আমার কাছে পৌঁছাইয়াছিল, আমি আসিতাম, তবুও আসিতে পারিনাই কারন সন্ন্যাস মন্ত্রে আমি আবিভূত ছিলাম, সন্ন্যাসদের পিছুটান বলে কিছু নাই,, আমরা দু ভাই কেন হেসেছিলাম কেন কেঁদেছিলাম, কারন আমার দাদা মৃত্যুর বারতা পেয়েছিলেন, এবার বুঝে নাও আমার ও দাদার মধ্যে কি সম্পর্ক ছিল, এবার তুমিই বল আমার বড়মা কিসের আশায় দাদার মৃতদেহের পাশে বসিয়া বুক ফাটা আহাজারি করিয়াছিল,, আর মেজ দিদি দেখ মাতৃস্নেহ দিয়ে শান্তনা বানী দিয়েছিল দাদার অবুঝ সন্তানদের,,
———————–ইতি———————–
ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ-ঃঃঃমাধবঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ-
মাধবীর দ্বিতীয় পত্র
————–ইয়াছিন————
প্রানাধিক মাধব,
অনেকদিন পর তোমার পত্র দেখিতে পেলাম ফেইস বুকের পাতায়, দেখার পরপরই তোমাকে লিখতে শুরু করিলাম, পত্র পাঠান্তে আর আমি স্থির থাকিতে পারিলামনা লিখতে বাধ্য হইলাম, প্রথমেই আমি তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতেছি, জানি তোমার নিকট ক্ষমার যোগ্য আমি নই, জানিনা তুমি আমাকে ক্ষমা করবে কিনা, বিশ্বাস কর আমাকে ভুল বুঝনা, আমার মন মানষিকতা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল, তাই তোমাকে নানান রকম কথা বলেছি,বিশ্বাস কর আমি ভুলের ভিতর ছিলাম, ভুল আমার ভেঙ্গেছে, আমার মিনতি ফিরে এস,, তুমি আসবেনা, না আসিলে তোমার মাধবীর কি হবে, তোমারই বিরহে কি সারাটা জীবন কাটাইয়া দিতে হবে,, সেই যে তুমি গেলে আর ফিরে আসিলেনা, মেজ দিদির অবস্থা ভালনা, তোমার বড় মা ও অসুস্থ, তোমাকে কিছু বলিবার শক্তি ও সাহস আমার নাই, আমি অপরাধিনি, আমার কথা বাদই দিলাম, যে মেজ দিদির চোখের জল ঝরিত তোমার জন্য, আমার শেষ অনুরোধ একবার এসে তোমার মেজ দিদিকে দেখে যাও…….
তোমারই অধমা
মাধবীলতা
ঃঃঃঃঃঃঃ মাধব মাধবীর আলাপন ঃঃঃঃঃঃঃ (এটা শেষ অংশ )
———————-ইয়াছিন————————–
মাধব বাড়ী ফিরে আসিয়া দেখিতে পাইল মেজ দিদি অসুস্থ অবস্থায় বিছানা গত হইয়াছে, বড় মার শরীর ও রুগ্ন হইয়া গিয়াছে,, আঁখির জল টপটপ করিয়া গন্ড বহিয়া ঝরিয়া পড়িতে লাগিল, মেজ দিদি ক্ষীন কন্ঠে কহিয়া উঠিল তুই আসিয়াছিস ভাই, এবার আমি মরিলেও শান্তি পাব, বড় ইচ্ছে ছিল তোর মুখ খানি আমি দেখিব,, তোর বড় হয়ে আমার অনুরোধ শেষকৃত্যটা তুই করবি কথা দে ভাই,,মাধবী শুনিতে পাইল, মাধব ফিরিয়া আসিয়াছে, যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় দৌড়াইয়া আসিল মাধবী, আসিয়া অবাক নয়নে তাকিয়ে দেখে কঙ্কালসার দেহ দাঁড়াইয়া আছে চিনিবার কোন পথ নাই,, চক্ষু দুটি কোটরাগত হইয়া গিয়াছে, পাশে গিয়া মাধবী কহিল একি হাল হইয়াছে তোমার, তুমি কেন বাড়ী ফিরে আস নাই,, থর থর করিয়া শরীর কাঁপিয়া উঠিল মাধবের,মাধব পড়িয়া যাইতে লাগিল, মাধবী ধরিয়া ফেলিল,, অতি কষ্টে মাধব বলিয়া উঠিল মেজ দিদি আমার পরমায়ু দিয়ে তোমায় ধরণীর বুকে বাঁচিয়ে রেখে গেলাম, তোমাকে বাঁচতে হবে,, দাদার ছেলে মেয়েগনকে তুমি ছাড়া কে দেখিবে,, আস্তে আস্তে শরীর নীল বর্ন হইয়া আসিতে লাগিল, মাধবী তোমার পত্র না পেলে আমি মরে ও সুখ পেতামনা,, তোমার যে ভুল ছিল সে ভুল আমি ভেঙ্গে দিয়ে গেলাম,, এ জনমে তোমায় নাইবা পেলাম, পরজনম বলে যদি কোন জনম থাকে সে জনমে তোমার আমার মিলন ঘটবেই…………..
………………………………..( সমাপ্ত )………………………..

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close